২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ২৮ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তালিকায় সাধারণ ছুটি যেমন আছে, তেমনি আছে নির্বাহী আদেশে দেওয়া ছুটি এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগও।
নতুন বছর শুরুর আগেই ছুটির তালিকা জানা থাকলে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষ — সবাই নিজেদের বার্ষিক পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই গুছিয়ে নিতে পারেন। ভ্রমণ পরিকল্পনা, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিষ্ঠানের কাজের সময়সূচি ঠিক করার ক্ষেত্রে এই ক্যালেন্ডার বিশেষভাবে কাজে আসে। চলুন, ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ ছুটির তালিকা বিস্তারিতভাবে দেখে নেওয়া যাক।
২০২৬ সালে মোট কত দিন ছুটি থাকছে
২০২৬ সালের ছুটিকে মূলত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
| ছুটির ধরন | মোট দিন |
|---|---|
| সাধারণ ছুটি | ১৪ দিন |
| নির্বাহী আদেশে ছুটি | ১৪ দিন |
| ঐচ্ছিক ছুটি (মুসলিম পর্ব) | ৫ দিন |
| ঐচ্ছিক ছুটি (হিন্দু পর্ব) | ৯ দিন |
| ঐচ্ছিক ছুটি (খ্রিষ্টান পর্ব) | ৪ দিন |
| ঐচ্ছিক ছুটি (বৌদ্ধ পর্ব) | ৭ দিন |
| পার্বত্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঐচ্ছিক ছুটি | ২ দিন |
মূল ২৮ দিনের সাধারণ ও নির্বাহী আদেশের ছুটির মধ্যে ৯ দিন শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে, ফলে বাস্তবে বাড়তি ছুটির সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে। এছাড়া একজন সরকারি কর্মচারী নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ ক্যালেন্ডার (সাধারণ ছুটি)
| ছুটির নাম | তারিখ ও বার |
|---|---|
| শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ২১ ফেব্রুয়ারি, শনিবার |
| জুমাতুল বিদা | ২০ মার্চ, শুক্রবার |
| ঈদুল ফিতর* | ২১ মার্চ, শনিবার |
| স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস | ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার |
| চৈত্র সংক্রান্তি (পার্বত্য এলাকা) | ১৩ এপ্রিল, সোমবার |
| মে দিবস | ১ মে, শুক্রবার |
| বুদ্ধপূর্ণিমা* | ১ মে, শুক্রবার |
| ঈদুল আজহা* | ২৮ মে, বৃহস্পতিবার |
| জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস | ৫ আগস্ট, বুধবার |
| ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)* | ২৬ আগস্ট, বুধবার |
| জন্মাষ্টমী | ৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার |
| দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী) | ২১ অক্টোবর, বুধবার |
| বিজয় দিবস | ১৬ ডিসেম্বর, বুধবার |
| বড়দিন (যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন) | ২৫ ডিসেম্বর, শুক্রবার |
*তারকা চিহ্নিত দিনগুলো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই বাস্তব তারিখ ১ দিন আগে-পরে হতে পারে।
নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ২০২৬
সাধারণ ছুটির বাইরে সরকার নির্বাহী আদেশে আরও ১৪ দিন ছুটি ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে আছে দুই ঈদের আগে-পরের ছুটি:
- শব-ই-বরাত — ৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার
- শব-ই-ক্বদর — ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার
- ঈদুল ফিতরের আগে-পরের ছুটি — ১৯, ২০, ২২ ও ২৩ মার্চ (মোট ৪ দিন)
- বাংলা নববর্ষ — ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার
- ঈদুল আজহার আগে-পরের ছুটি — ২৬, ২৭, ২৯, ৩০ ও ৩১ মে (মোট ৫ দিন)
- আশুরা — ২৬ জুন, শুক্রবার
- দুর্গাপূজা (নবমী) — ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার
এই হিসাবে ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরে টানা ৫ দিন এবং ঈদুল আজহায় টানা ৬ দিন ছুটি পাওয়া যাবে, যা বছরের সবচেয়ে বড় দুটি ছুটির সময়।
ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা
সরকারি চাকরিজীবীরা নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নিচের তালিকা থেকে বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি বেছে নিতে পারবেন।
মুসলিম পর্ব: শব-ই-মিরাজ (১৭ জানুয়ারি), ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন (২৪ মার্চ), ঈদুল আজহার চতুর্থ দিন (১ জুন), আখেরি চাহার সোম্বা (১২ আগস্ট), ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহ (২৪ সেপ্টেম্বর)।
হিন্দু পর্ব: সরস্বতী পূজা (২৩ জানুয়ারি), শিবরাত্রি ব্রত (১৫ ফেব্রুয়ারি), দোলযাত্রা (৩ মার্চ), হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব (১৭ মার্চ), মহালয়া (১০ অক্টোবর), দুর্গাপূজার সপ্তমী-অষ্টমী (১৮-১৯ অক্টোবর), লক্ষ্মী পূজা (২৫ অক্টোবর), শ্যামা পূজা (৮ নভেম্বর)।
খ্রিষ্টান পর্ব: ইংরেজি নববর্ষ (১ জানুয়ারি), ভস্ম বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), পুণ্য বৃহস্পতি-শুক্র-শনিবার ও ইস্টার সানডে (২-৫ এপ্রিল), বড়দিনের আগে-পরের দিন (২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর)।
বৌদ্ধ পর্ব: মাঘী পূর্ণিমা (১ ফেব্রুয়ারি), চৈত্র সংক্রান্তি (১৩ এপ্রিল), বুদ্ধপূর্ণিমার আগে-পরের দিন (৩০ এপ্রিল ও ২ মে), আষাঢ়ী পূর্ণিমা (২৯ জুলাই), মধু পূর্ণিমা (২৬ সেপ্টেম্বর), প্রবারণা পূর্ণিমা (২৫ অক্টোবর)।
সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ স্কুল ও কলেজের জন্য
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতি বছর সরকারি ছুটির তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলাদাভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকা প্রকাশ করে। স্কুল-কলেজের ছুটিতে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- সরকার ঘোষিত সব সাধারণ ও নির্বাহী আদেশের ছুটি
- গ্রীষ্মকালীন অবকাশ (সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে, তীব্র গরমের সময়)
- বার্ষিক পরীক্ষা পরবর্তী ছুটি
- শীতকালীন ছুটি (ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে)
যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ছুটির তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নোটিশ আকারে আলাদাভাবে প্রকাশিত হয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচিত নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করে নেওয়া, কারণ কিছু ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভিন্নতা থাকতে পারে।
অন্য কোনো পোস্ট : রাষ্ট্রপতি | বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি থেকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ২০২৬
সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ ব্যাংকের জন্য
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য আলাদা ছুটির তালিকা প্রকাশ করে, যা সরকারি সাধারণ ছুটির তালিকার সঙ্গে মূলত মিলে যায়। ২০২৬ সালের ব্যাংক ছুটির তালিকা গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই ঈদ, দুর্গাপূজা, বড়দিন ও জাতীয় দিবসগুলোতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকে, তবে অনেক ব্যাংক তাদের নির্দিষ্ট শাখায় বিকল্প ব্যাংকিং সেবা বা অনলাইন লেনদেনের সুযোগ চালু রাখে। ব্যবসায়িক বা আর্থিক লেনদেনের পরিকল্পনা করার আগে নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়াই ভালো।
বেসরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত শ্রম আইন অনুযায়ী বছরে নির্দিষ্টসংখ্যক নৈমিত্তিক, পীড়া ও অর্জিত ছুটি দিয়ে থাকে, যা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে জাতীয় দিবস, দুই ঈদ, দুর্গাপূজা ও বড়দিনের মতো বড় ধর্মীয়-জাতীয় ছুটিগুলো প্রায় সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই মেনে চলে। পোশাক শিল্প, বেসরকারি ব্যাংক-বীমা কিংবা করপোরেট অফিসের ছুটির দিনসংখ্যা ও কাঠামো একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম হওয়ায়, কর্মীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের এইচআর নীতিমালা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।
পরিকল্পনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের ছুটি মোট ৫ দিন এবং ঈদুল আজহার ছুটি মোট ৬ দিন থাকছে।
- দুর্গাপূজার মূল ছুটি ২ দিন — নবমী ও বিজয়া দশমী।
- চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ, শব-ই-বরাত ও শব-ই-ক্বদরের তারিখ ১ দিন এদিক-ওদিক হতে পারে।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৈসাবি উৎসবের জন্য আলাদাভাবে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ কোথায় পাওয়া যাবে?
সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ সাধারণত সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়।
২০২৬ সালে বাংলাদেশে কতটি সরকারি ছুটি রয়েছে?
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির সংখ্যা নির্ধারিত সরকারি প্রজ্ঞাপনের ওপর ভিত্তি করে জানা যায়। সাধারণ, নির্বাহী আদেশ এবং ঐচ্ছিক ছুটি আলাদাভাবে উল্লেখ থাকতে পারে।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় কি ঈদের ছুটি রয়েছে?
হ্যাঁ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের ছুটি সরকারি ছুটির তালিকায় নির্ধারিত থাকে।
সরকারি ছুটির দিনে কি সব সরকারি অফিস বন্ধ থাকে?
সাধারণ সরকারি ছুটির দিনে অধিকাংশ সরকারি অফিস বন্ধ থাকে। তবে জরুরি সেবা ও বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম চালাতে পারে।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তারিখ কি পরিবর্তন হতে পারে?
বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার প্রজ্ঞাপন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কোনো ছুটির তারিখ পরিবর্তন, সংযোজন বা বাতিল করতে পারে।
শুক্রবার ও শনিবার কি সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত?
সাপ্তাহিক ছুটি এবং সরকারি ছুটি এক বিষয় নয়। বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিন আলাদাভাবে নির্ধারিত থাকে।
সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬ কি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রযোজ্য?
সরকারি ছুটির তালিকা মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জন্য প্রযোজ্য। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নীতিমালা ও প্রযোজ্য শ্রম আইন অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করতে পারে।
শেষ কথা
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা আগে থেকে জানা থাকলে বছরের শুরুতেই ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা কর্মক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সহজেই সাজিয়ে নেওয়া যায়। যেহেতু বেশ কিছু ধর্মীয় ছুটি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি প্রজ্ঞাপন বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সবশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


