বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে আলোচিত এবং স্পর্শকাতর একটি পদ হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশের আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট-ভিসা পর্যন্ত অসংখ্য বিষয় এই একটি মন্ত্রণালয়ের হাত ধরেই চলে। অনেকেই গুগলে খোঁজেন—বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে, তার কাজ কী, আগে কারা এই পদে ছিলেন। চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে আসলে কী বোঝায়
সহজ ভাষায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকেন। বাংলাদেশে এই মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে কাজ করেন, আর তার অধীনে থাকে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসার, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী ও দপ্তর। বলা যায়, একটি দেশের ভেতরে মানুষ কতটা নিরাপদ বোধ করবে, তার অনেকখানিই নির্ভর করে এই মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতার ওপর।
বর্তমান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে (২০২৬)
দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতা ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান, যেখানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় (বর্তমানে পেকুয়া উপজেলা) জন্মগ্রহণ করেন। রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। কূটনৈতিক অঙ্গনেও তার কিছুটা পরিচিতি আছে—তিনি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সেমিনার-কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তার নিজ এলাকায় ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের তালিকা (১৯৭১–২০২৬)
| ক্রম | নাম | মেয়াদকাল | পদবি | সরকার/প্রধানমন্ত্রী |
|---|---|---|---|---|
| ১ | এ এইচ এম কামারুজ্জামান | ১০ এপ্রিল ১৯৭১ – ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ | মন্ত্রী | মুজিবনগর সরকার (তাজউদ্দীন আহমদ) |
| ২ | শেখ মুজিবুর রহমান | ১১ জানুয়ারি – ১২ এপ্রিল ১৯৭২ | মন্ত্রী | শেখ মুজিব সরকার |
| ৩ | আব্দুল মান্নান | ১২ এপ্রিল ১৯৭২ – ১৬ জানুয়ারি ১৯৭৩ | মন্ত্রী | শেখ মুজিব সরকার |
| ৪ | আব্দুল মালেক উকিল | ১৬ জানুয়ারি ১৯৭৩ – ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ | মন্ত্রী | শেখ মুজিব সরকার |
| ৫ | মুহাম্মদ মনসুর আলী | ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ | মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীও) | শেখ মুজিব সরকার |
| ৬ | খন্দকার মোশতাক আহমেদ | ১৫ আগস্ট – ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ | মন্ত্রী | মোশতাক সরকার |
| ৭ | জিয়াউর রহমান | ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ – ৬ জুলাই ১৯৭৮ | সিএমএলএ ও মন্ত্রী | সায়েম/জিয়া সরকার |
| ৮ | এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান | ৬ জুলাই ১৯৭৮ – ২৭ নভেম্বর ১৯৮১ | মন্ত্রী | জিয়া সরকার |
| ৯ | এম এ মতিন | ২৭ নভেম্বর ১৯৮১ – ২৪ মার্চ ১৯৮২ | মন্ত্রী | সাত্তার সরকার |
| ১০ | হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ | ২৪ মার্চ – ১৭ জুলাই ১৯৮২ | সিএমএলএ ও মন্ত্রী | এরশাদ সরকার |
| ১১ | মোহাব্বত জান চৌধুরী | ১৭ জুলাই ১৯৮২ – ১৯ জুলাই ১৯৮৩ | মন্ত্রী | এরশাদ সরকার |
| ১২ | আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী | ১৯ জুলাই ১৯৮৩ – ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ | মন্ত্রী | এরশাদ সরকার |
| ১৩ | মাহমুদুল হাসান | ১৭ ফেব্রুয়ারি – ১ ডিসেম্বর ১৯৮৬ | মন্ত্রী | এরশাদ সরকার |
| ১৪ | এম এ মতিন | ১ ডিসেম্বর ১৯৮৬ – ২১ মার্চ ১৯৮৯ | মন্ত্রী | এরশাদ সরকার |
| ১৫ | মাহমুদুল হাসান | ২১ মার্চ ১৯৮৯ – ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ | মন্ত্রী | এরশাদ সরকার |
| ১৬ | খালেদা জিয়া | ৭ এপ্রিল – ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ | প্রধানমন্ত্রী নিজেই | প্রথম খালেদা সরকার |
| ১৭ | আব্দুল মতিন চৌধুরী | ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ – ১৯ মার্চ ১৯৯৬ | মন্ত্রী | প্রথম খালেদা সরকার |
| ১৮ | খন্দকার মোশাররফ হোসেন | ১৯–৩০ মার্চ ১৯৯৬ | মন্ত্রী | দ্বিতীয় খালেদা সরকার |
| ১৯ | মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান | ৩০ মার্চ – ২৪ জুন ১৯৯৬ | তত্ত্বাবধায়ক প্রধান উপদেষ্টা | তত্ত্বাবধায়ক সরকার |
| ২০ | রফিকুল ইসলাম | ২৪ জুন ১৯৯৬ – ২ মার্চ ১৯৯৯ | মন্ত্রী | প্রথম হাসিনা সরকার |
| ২১ | মোহাম্মদ নাসিম | ২ মার্চ ১৯৯৯ – ১৬ জুলাই ২০০১ | মন্ত্রী | প্রথম হাসিনা সরকার |
| ২২ | লতিফুর রহমান | ১৬ জুলাই – ১১ অক্টোবর ২০০১ | তত্ত্বাবধায়ক প্রধান উপদেষ্টা | তত্ত্বাবধায়ক সরকার |
| ২৩ | আলতাফ হোসেন চৌধুরী | ১১ অক্টোবর ২০০১ – ২৬ মার্চ ২০০৪ | মন্ত্রী | তৃতীয় খালেদা সরকার |
| ২৪ | ইয়াজউদ্দিন আহমেদ | ২৯ অক্টোবর ২০০৬ – ১১ জানুয়ারি ২০০৭ | রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা | তত্ত্বাবধায়ক সরকার |
| ২৫ | এম এ মতিন | ১৬ জানুয়ারি ২০০৮ – ৬ জানুয়ারি ২০০৯ | উপদেষ্টা | ফখরুদ্দীন সরকার |
| ২৬ | সাহারা খাতুন | ৭ জানুয়ারি ২০০৯ – ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১২ | মন্ত্রী | দ্বিতীয় হাসিনা সরকার |
| ২৭ | মুহিউদ্দিন খান আলমগীর | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১২ – ২১ নভেম্বর ২০১৩ | মন্ত্রী | দ্বিতীয় হাসিনা সরকার |
| ২৮ | শেখ হাসিনা | ২১ নভেম্বর ২০১৩ – ১৪ জুলাই ২০১৫ | প্রধানমন্ত্রী নিজেই | তৃতীয় হাসিনা সরকার |
| ২৯ | আসাদুজ্জামান খান কামাল | ১৫ জুলাই ২০১৫ – ৬ আগস্ট ২০২৪ | মন্ত্রী | তৃতীয়–পঞ্চম হাসিনা সরকার |
| ৩০ | এম সাখাওয়াত হোসেন | ৯–১৬ আগস্ট ২০২৪ | উপদেষ্টা | অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (ইউনূস) |
| ৩১ | জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী | ১৬ আগস্ট ২০২৪ – ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | উপদেষ্টা | অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (ইউনূস) |
| ৩২ | সালাহউদ্দিন আহমদ | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বর্তমান | মন্ত্রী | তারিক রহমান সরকার |
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা
| ক্রম | নাম | মেয়াদকাল | সরকার |
|---|---|---|---|
| ১ | লুৎফুজ্জামান বাবর | ১০ অক্টোবর ২০০১ – ২৯ অক্টোবর ২০০৬ | তৃতীয় খালেদা সরকার |
| ২ | সোহেল তাজ | ৬ জানুয়ারি – ৩১ মে ২০০৯ | দ্বিতীয় হাসিনা সরকার |
| ৩ | শামসুল হক টুকু | ৩১ জুলাই ২০০৯ – ১২ জানুয়ারি ২০১৪ | দ্বিতীয় হাসিনা সরকার |
| ৪ | খোদা বক্স চৌধুরী | ১০ নভেম্বর ২০২৪ – ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | বিশেষ সহকারী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ আসলে কী কী
অনেকেই জানতে চান “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাজ কি”। মোটা দাগে বললে দায়িত্বগুলো এমন:
- দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা তদারকি করা
- পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবির মতো বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণ
- সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধ
- পাসপোর্ট, ভিসা ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন
- কারা প্রশাসন ও বন্দিদের ব্যবস্থাপনা তত্ত্বাবধান
- জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে কৌশল নির্ধারণ
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা
সহজ কথায়, দেশের ভেতরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থার প্রায় পুরোটাই এই মন্ত্রণালয়ের ছাতার নিচে চলে আসে।
নতুন কিছু : রাষ্ট্রপতি | বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি থেকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ২০২৬
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোন কোন বিভাগ থাকে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূলত কয়েকটি বিভাগে বিভক্ত—সুরক্ষা সেবা বিভাগ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভাগ ইত্যাদি। এর অধীনে কাজ করে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, এবং বিশেষ শাখা (এসবি)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব প্রধান থাকলেও চূড়ান্ত নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব থাকে মন্ত্রীর হাতেই।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল—কেন এত আলোচিত
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময় তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে। সরকার পতনের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতে তাকেসহ ১০ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত, এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে মামলা এগিয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দেয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি যতটা ক্ষমতাশালী, ঠিক ততটাই জবাবদিহিতার আওতায়ও থাকে।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই পদে অনেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—মুজিবনগর সরকারের আমলে এ এইচ এম কামারুজ্জামান, পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ নাসিম, আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রমুখ। আর সবশেষ সংযোজন সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে এই পদে পরিবর্তন আসা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নিয়মিত চিত্র।
নতুন সরকারের অধীনে অগ্রাধিকার কী
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা, মানবাধিকার ইস্যুতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপত্তা খাতে সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের সামনে এই চ্যালেঞ্জগুলোই সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার নিয়ে কী বলছেন মন্ত্রী
র্যাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বিতর্ক চলছিল, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে জবাবদিহিমূলক সংস্কারের পথ বেছে নিয়েছে, কারণ আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি এলিট ফোর্স প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে গত ছয় মাসে সরকার একটি ভঙ্গুর বাহিনী উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও তাদের মনোবল ও নৈতিকতা পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। গুমের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতেও তিনি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন—দেশে যেন আর কেউ গুমের শিকার না হয়, সেই প্রত্যাশার কথা তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর স্বরাষ্ট্র সচিব—দুজন কি একই কাজ করেন
এখানে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নীতিনির্ধারণ করেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র সচিব একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যিনি মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করেন। সহজভাবে বললে, মন্ত্রী দিক নির্ধারণ করেন, সচিব সেই দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন।
সাধারণ মানুষের জীবনে এই পদের প্রভাব কতটা
পাসপোর্ট করাতে গেলে, থানায় জিডি করতে গেলে, কিংবা কোনো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই মন্ত্রণালয়ের নীতি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনকে স্পর্শ করে। একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর যে প্রভাব ফেলতে পারেন, তা অন্য অনেক মন্ত্রণালয়ের চেয়ে অনেক বেশি লক্ষণীয়। এ কারণেই প্রতিটি সরকার গঠনের সময় এই পদ নিয়ে এত বেশি আগ্রহ ও আলোচনা দেখা যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: বাংলাদেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে?
উত্তর: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ, যিনি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য।
প্রশ্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান কাজ কী?
উত্তর: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পুলিশ-র্যাব-বিজিবির মতো বাহিনী তদারকি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পাসপোর্ট-ভিসা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণই তার মূল দায়িত্ব।
প্রশ্ন: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এখন কোথায়?
উত্তর: সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও গণআন্দোলনে দমননীতির অভিযোগে একাধিক মামলা ও তদন্ত চলছে; আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে।
প্রশ্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কীভাবে নিয়োগ পান?
উত্তর: সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান, এভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দায়িত্ব পান।
প্রশ্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী সরকারের সার্বিক নেতৃত্ব দেন, আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দিষ্টভাবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিভাগের দায়িত্বে থাকেন।
শেষ কথা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই একটি স্পর্শকাতর জায়গা দখল করে আছে—কারণ এই পদের সাথে সরাসরি জড়িয়ে থাকে মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন। ২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর থেকে এই মন্ত্রণালয়ে যে পরিবর্তনগুলো এসেছে, তা প্রমাণ করে যে ক্ষমতার সাথে জবাবদিহিতাও অবিচ্ছেদ্য। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা এবং মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা। আগামী দিনগুলোতে এই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আরও অনেক আলোচনা হবে—তাই এই বিষয়ে সবশেষ তথ্য জানতে চোখ রাখতে হবে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমেই।


