বাংলাদেশে অনলাইনে কানের মেশিন কেনার চাহিদা গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা আর স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এখন বহু মানুষ ফিজিক্যালি দোকানে না গিয়ে অনলাইনে স্বাস্থ্য সহায়ক ডিভাইস কেনার দিকে ঝুঁকছেন। কানের মেশিনও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু এই সুবিধার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও আছে, যা না জানলে পরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
অনলাইনে কানের মেশিন কেনার সুবিধাগুলো
শুধু দাম কম বললে পুরো ছবিটা পাওয়া যায় না। ঢাকার একটি অডিওলজি সেন্টারের অডিওলজিস্টের কথায়, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে একসাথে অনেক ব্র্যান্ড আর মডেল তুলনা করার সুবিধা আছে যেটা ফিজিক্যাল শপে পাওয়া কঠিন।
প্রথম সুবিধা হলো দামের স্বচ্ছতা। অনলাইনে দাম লেখা থাকে, দরদাম করতে হয় না। একই মডেল বিভিন্ন দোকানে কত নিচ্ছে সেটা মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে দেখা যায়।
দ্বিতীয়ত, পণ্যের বিস্তারিত তথ্য। ভালো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি কানের মেশিনের চ্যানেল সংখ্যা, ব্যাটারির ধরন, ওয়াটারপ্রুফ রেটিং সব লেখা থাকে। ফিজিক্যাল শপে বিক্রেতার কথার উপর নির্ভর করতে হয়।
তৃতীয়ত, সহজ তুলনা। বাজেট ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে সিমেন্স, অটিকন আর স্টারকী-এর কোন মডেলটা আপনার জন্য উপযুক্ত, অনলাইনে পাশাপাশি রেখে দেখতে পারবেন।
কোথায় সাবধান হতে হবে
তবে সব বিষয়েই দুটো দিক থাকে। অনলাইনে কানের মেশিন কেনার ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও আছে যেগুলো উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নকল পণ্য বা মিথ্যা স্পেসিফিকেশন। অনেক সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা অপরিচিত ওয়েবসাইটে “সিমেন্স” বা “ফোনাক” নাম লিখে নিম্নমানের চায়না পণ্য বিক্রি করে থাকে। বাইরে থেকে দেখতে একই লাগলেও ভেতরে সস্তা সার্কিট থাকে।
দ্বিতীয় সমস্যা হলো অডিওলজিস্ট ছাড়া কেনা। কানের মেশিন একটি স্বাস্থ্যসেবা পণ্য, কানের দোকানের পণ্য নয়। কানে ঠিক কতটুকু সমস্যা, কোন ধরনের শ্রবণ ক্ষতি, সেটা না জেনে কিনলে ভুল মডেল নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেকে অনলাইনে বেশি দামের ডিজিটাল মেশিন কেনেন অথচ তার হালকা সমস্যায় অনেক কম দামের মডেলেই কাজ হতো।
তৃতীয় সমস্যা হলো ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস নিশ্চিত না থাকা। কানের মেশিন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কোনো সমস্যা হলে সার্ভিস দরকার। অপরিচিত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে সার্ভিস পাওয়া যায় না বলেই অভিযোগ বেশি।
নিরাপদে অনলাইনে কানের মেশিন কেনার পাঁচটি পরামর্শ
একঃ কেনার আগে একজন অডিওলজিস্ট বা ENT বিশেষজ্ঞের কাছে কান পরীক্ষা করুন। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে বলে দিন কোন ধরনের মেশিন দরকার।
দুইঃ ভেরিফাইড মার্কেটপ্লেস থেকে কিনুন যেখানে পণ্যের সঠিক স্পেশিফিকেশন এবং বিক্রেতা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া আছে। বিডিস্টলের মতো প্রতিষ্ঠিত মার্কেটপ্লেসে পণ্যের বিস্তারিত তথ্য ও বিক্রেতার রেটিং দেখে কেনা যায়, যা ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ বা অপরিচিত সাইটের চেয়ে অনেক নিরাপদ। বিডিস্টল মার্কেটপ্লেসে কানের মেশিনের বিভিন্ন মডেল ও আপডেটেড দাম দেখা যাবে।
তিনঃ সিমেন্স, অটিকন, ফোনাক, বার্নাফন এই ব্র্যান্ডগুলোর অথরাইজড ডিলার কিনা সেটা জেনে নিন। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নামগুলো ব্যবহার করে নকল পণ্য বিক্রি হয়।
চারঃ ওয়ারেন্টি কার্ড আর সার্ভিস সেন্টারের তথ্য কেনার আগেই জেনে নিন। বাংলাদেশে সিমেন্স ও ফোনাক-এর সার্ভিস সেন্টার আছে, সেখান থেকে সরাসরি কিনলে বা তাদের অথরাইজড চ্যানেল থেকে কিনলে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন।
পাঁচঃ রিভিউ পড়ুন। শুধু বিক্রেতার প্রচারণা নয়, আগে কেনা ক্রেতাদের মন্তব্য ও রেটিং দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
সবশেষ বলা যায় যে অনলাইনে কানের মেশিন কেনা সমস্যা নয়, সমস্যা হলো অজ্ঞতার সাথে কেনা। কানের মেশিন এমন একটি পণ্য যেটা সঠিক হলে মানুষের জীবন বদলে দেয়, ভুল হলে টাকাও যায় কাজও হয় না। বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়া আর ধুলোবালিতে কানের মেশিন সংরক্ষণেও সতর্কতা দরকার। ওয়াটারপ্রুফ বা ডাস্টপ্রুফ রেটিং দেখে মেশিন কিনলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
সার্বিকভাবে বলতে গেলে, অনলাইনে কানের মেশিন কেনা নিরাপদ হতে পারে, যদি সঠিক জায়গা থেকে কেনা হয় এবং কেনার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়। সুবিধাটা নেওয়ার জন্য সতর্কতাটাও মানতে হবে।


