বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি এবং রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। কখনো রাষ্ট্রপতি ছিলেন রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র, আবার সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় এই পদ মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই ২০২৬ পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হয়। এরপর জাতীয় সংসদে নির্বাচনের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২১ আগস্ট ২০২৬ বঙ্গভবনে শপথ নেন। বঙ্গভবনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এই আর্টিকেলে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম কী, স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতিদের তালিকা, তাঁদের এলাকার নাম, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ, শপথ পাঠ করানোর নিয়ম এবং বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম কি?
২০২৬ সালের আগস্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি ২০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পান এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওলি আহমেদ পান ৮৮ ভোট। এরপর ২১ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
বঙ্গভবনের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথ বাক্য পাঠ করান ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন।
পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। তিনি তখন পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি তালিকাতেও শেখ মুজিবুর রহমান ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রাথমিক পর্যায়ের দায়িত্বে দেখানো হয়েছে।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশে এই পর্যন্ত যতগুলো রাষ্ট্রপতি আছেন
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কেউ অস্থায়ী, ভারপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, আবার কেউ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে পূর্ণ মেয়াদ বা একাধিক মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তালিকায় রাষ্ট্রপতি, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিদের নাম ও এলাকার তালিকা
| ক্রম | রাষ্ট্রপতির নাম | দায়িত্বের সময় | এলাকা/জন্মস্থান |
|---|---|---|---|
| ১ | শেখ মুজিবুর রহমান | ১৯৭১–১৯৭২; ১৯৭৫ | টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ |
| ২ | সৈয়দ নজরুল ইসলাম | ১৯৭১–১৯৭২, অস্থায়ী | কিশোরগঞ্জ |
| ৩ | বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী | ১৯৭২–১৯৭৩ | টাঙ্গাইল |
| ৪ | মোহাম্মদ মুহম্মদুল্লাহ | ১৯৭৩–১৯৭৫ | রায়পুর, লক্ষ্মীপুর |
| ৫ | খন্দকার মোশতাক আহমদ | ১৯৭৫ | দাউদকান্দি, কুমিল্লা |
| ৬ | বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম | ১৯৭৫–১৯৭৭ | রংপুর অঞ্চল |
| ৭ | জিয়াউর রহমান | ১৯৭৭–১৯৮১ | বগুড়া |
| ৮ | বিচারপতি আবদুস সাত্তার | ১৯৮১–১৯৮২ | পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান অঞ্চলে জন্ম; পরবর্তীতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক জীবন |
| ৯ | বিচারপতি এ এফ এম আহসানউদ্দীন চৌধুরী | ১৯৮২–১৯৮৩ | ঢাকা |
| ১০ | হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ | ১৯৮৩–১৯৯০ | রংপুর |
| ১১ | বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ | ১৯৯০–১৯৯১; ১৯৯৬–২০০১ | নেত্রকোনা |
| ১২ | আবদুর রহমান বিশ্বাস | ১৯৯১–১৯৯৬ | বরিশাল |
| ১৩ | এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী | ২০০১–২০০২ | মুন্সীগঞ্জ |
| ১৪ | ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার | ২০০২, দায়িত্বপ্রাপ্ত | পঞ্চগড় |
| ১৫ | অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ | ২০০২–২০০৯ | মুন্সীগঞ্জ |
| ১৬ | মো. জিল্লুর রহমান | ২০০৯–২০১৩ | কিশোরগঞ্জ |
| ১৭ | মো. আবদুল হামিদ | ২০১৩–২০২৩ | কিশোরগঞ্জ |
| ১৮ | মো. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন | ২০২৩–২০২৬ | পাবনা |
| ১৯ | হাফিজ উদ্দিন আহমদ | ২০২৬, অন্তর্বর্তী/দায়িত্বকাল | ঢাকা অঞ্চল |
| ২০ | মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | ২০২৬–বর্তমান | ঠাকুরগাঁও |
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কত বছর?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর।
একজন রাষ্ট্রপতি তাঁর উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত পদে বহাল থাকতে পারেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন।
তবে বাস্তব রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক রাষ্ট্রপতি পূর্ণ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সামরিক অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক পরিবর্তন, পদত্যাগ বা অন্যান্য সাংবিধানিক পরিস্থিতির কারণে কয়েকজনের মেয়াদ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে, মো. আবদুল হামিদ দুই মেয়াদে মোট ১০ বছর রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় এই পদে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম।
রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান কে?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার শপথ পাঠ করান।
তবে ২০২৬ সালের বিশেষ পরিস্থিতিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ পাঠ করান। বঙ্গভবনের সরকারি তথ্যেও এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ সাধারণ নিয়ম হিসেবে রাষ্ট্রপতির শপথের সঙ্গে জাতীয় সংসদের স্পিকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, স্পিকারের অনুপস্থিতি বা দায়িত্ব পালনে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির প্রধান দায়িত্ব কী?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারের নির্বাহী প্রধান হলেও রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—
- প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন।
- আইন ও সংসদীয় কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
- বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নিয়োগে ভূমিকা রাখা।
- রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
- সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন।
- বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের গ্রহণ করা।
- সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্ষমতা প্রয়োগ করা।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা বঙ্গভবন থেকেই এসব সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের বড় অংশ পরিচালিত হয়।
২০২৬ সালে রাষ্ট্রপতি পদে বড় পরিবর্তন
২০২৬ সাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হয়ে থাকবে। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁর পদত্যাগের মাধ্যমে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয়। সরকারি তালিকায় তাঁর দায়িত্বকাল ২৪ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।
এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় সংসদের ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওলি আহমেদ ৮৮ ভোট পান। এই নির্বাচন ১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উঠে আসে।
২১ আগস্ট ২০২৬ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতির নাম এবং তার জীবন
২০২৬ সালের জুলাই মাসে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়া রাষ্ট্রপতি ছিলেন মো. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দীর্ঘ সরকারি ও বিচারিক কর্মজীবন ছিল। তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবেও কাজ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিনের জন্ম ও শৈশব
মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের শিবরামপুর এলাকার জুবিলি ট্যাঙ্ক পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শরফুদ্দিন আনসারী এবং মাতার নাম খায়রুন্নেসা। তিনি পাবনার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন।
কর্মজীবন
সাহাবুদ্দিন বিচার বিভাগে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তখন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সময়কাল
২৪ এপ্রিল ২০২৩ তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব শেষ হয়। ফলে তিনি পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন।
তাঁর সময়কালের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বিভিন্ন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভূমিকা পালন করা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁকে তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ পাঠ করানো রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। যদিও সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের দৈনন্দিন নির্বাহী কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, তবুও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে সরকার গঠন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নিয়োগ, আইন প্রণয়নের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব রয়েছে।
তাই রাষ্ট্রপতি পদটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক পদ নয়; বরং বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম কি?
২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ২১ আগস্ট ২০২৬ শপথ নেন।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কত বছর?
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মেয়াদ ৫ বছর।
রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান কে?
সাধারণভাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান। ২০২৬ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ পাঠ করান।
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কে?
২০২৬ সালের আগস্টে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন মো. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তাঁর দায়িত্বকাল ছিল ২৪ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬।
শেষ কথা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপতি হওয়া থেকে শুরু করে ২০২৬ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ—এই দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রপতি পদটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছে।
২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিবর্তনের ফলে এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তাই বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, বর্তমান রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপতিদের তালিকা, মেয়াদ ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে জানা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


